দূর থেকে আলো কাছে যেতেই আধার


প্রিয়া তুমি কোথায়? কোথায় আছ তুমি লুকিয়ে 
ভ্রা
ন্ত পথে খোঁজে খোঁজে ক্লান্ত আমি 
বটবৃৰ তলে দাড়িয়ে 
বলি তারে, মলিন বেশে এ পথ দিয়া 
গেছে আমার প্রাণতম প্রিয়া৷ 
হেসে বলে পাগল ছেলে হায় 
দিবা-নিশি কত মানুষ আসে-যায়৷ 
কার খবর রাখবো আমি 
কে প্রিয়া-কে তুমি? 
কেঁদে ফিরে আসি পুকুর পাড়ে 
কেঁদে কেঁদে বলি তারে৷ 
হাত ধুয়েছে, পা ধুয়েছে, ধুয়েছে প্রিয়ার মুখ তোমার জলে 
কোথায় প্রিয়া দাও না একটু বলে৷ 
প্রেম দিওনা পথিক শুনো 
আমি গুহায় বন্ধি জানো৷ 
চর্তুদিক মাটি দিয়ে বন্ধি করেছে আমাকে 
কিভাবে জান প্রিয়া তোমার কোথায়, 
কি বলবো আর তোমাকে৷ 
সোজা চলি বনের দিকে, 
হঠাত্‍ থামি শিয়াল দেখে 
ও !পন্ডিত মশাই শুনো, 
আমার প্রিয়া কে চিনো? 
এ পথ দিয়ে গেছে প্রিয়া এইতো কিছু
ক্ষন আগে 
ভুল বুঝা-বুঝির এক পর্যায় প্রচন্ড রাগে৷ 
মানুষকে সাহায্য করা ছেড়ে দিয়েছি চিরতরে 
আমাদের দেখলে মানুষ তাড়া করে৷ 
মানুষের কি
ক্ষতি করেছি ভাই 
দুই-একটা হাস-মুরগিই তো চুরি করে খাই৷ 
তাতেই আমাদের উপর এত তাড়া 
চোখে দেখে না দেশ লুট-পাট করে খাচ্ছে যারা৷ 
ব্যর্থ হয়ে ব্যথিত মনে 
প্রবেশ করি সবুজ গহীন বনে৷ 
সেখানে ছিল গাছ সারি সারি 
এখন সেখানে গড়ে তুলেছে অসংখ্য বাড়ী৷ 
নামেই আছে সবুজ গহীন বন 
দিনদিন গাছগুলো হচ্ছে নির্ধন৷ 
সামনে দেখি দুইটি পাখি ডালে বসে 
দাড়ায় গিয়ে তাদের পাশে৷ 
বলি তাদের, শুনো পাখি ভাই 
আমার প্রিয়া বনে আছে তার সন্ধান চাই৷ 
পাখি বলে, ধ্বংশকারী, পাষান্ড মানুশ জাতি 
আমাদের বংশ, আবাস করছ দিন-রাতি৷ 
তোদের ধিক্কার,ধিক্কার সর্বনাশ যেন হয় 
আসে যেন কোন প্রাকৃতিক প্রলয়৷ 
মনে পড়ে বিজ্ঞানীদের কথা আর 
দেশের তুলনায় ২৫% বনাঞ্চল থাকা দরকার৷ 
৯% আছে বাকি ১৫% যদি না হয় পড়ে 
দেশে তলিয়ে যাবে কোন প্রাকৃতিক ঝড়ে৷ 
পাখি বলে, এই বোকা মানুষ চুপ কেন ভয় পেলি বুঝি 
ভয় পায় নি প্রিয়াকে যে কোথায় খুঁজি৷ 
কলতান কলরবে পাখি গেল উড়ে 
সামনে তাকিয়ে দেখি একটি বাড়ি দূরে৷ 
বাড়ির পাশে গিয়ে দাড়িয়ে থাকি 
কি নামে যে আমি ডাকি৷ 
হঠাত্‍ বেড়িয়ে আসে মধ্যবয়সের এক মেয়ে 
আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে৷ 
বলে, এখানে কি চাই? কে তুমি, কোথায় বাড়ি 
এখানে প্রিয়া এসেছে, আমি বলে দিলাম তাড়াতাড়ি৷ 
প্রিয়া কে বাজে মতলব বুঝি 
সত্যি বলছি সারাদিন ধরে প্রিয়াকে খুঁজি৷ 
প্রিয়া-টিয়া নেই এখানে 
খুঁজো গিয়ে অন্যখানে৷ 
যত সব পাগল-ছাগলের দল 
উড়ে এসে-জুড়ে বসে মানে না রোদ,বাদল৷ 
মলিন বেশে আসি ফিরে 
বিলীন হওয়া নদীর তীরে৷ 
সামান্য জল জমা নদীর বুকে 
তৃষ্ণায় ঝাপসা দেখছি দুই চোখে৷ 
যখন করবো নদীর জল পান 
নদী বলে, সাবধান ,সাবধান৷ 
এই জল তোমাদের জন্য নয়, 
তোমাদের জন্য আমার হয়েছে ক্ষয়৷ 
তোমরা স্বার্থপর লোভী জনতা 
আমার বুকে বাধ দিয়ে করেছ জল শূণ্যতা৷ 
মানুষ জাতির জন্য উপকার নেই আর 
নেতারা এটা করবো-সেটা করবো নদী বাচানো দরকার৷ 
তাদের মুখের মিষ্টি কথায় আর গলবো না 
যৌবন ফিরে পেলে মানুষের দেখানো পথে চলবো না৷ 
নদী ভাই এসেছি বড় আশা নিয়ে তোমার কাছে 
প্রিয়া হাড়িয়ে গেছে-তোমার বুকে কি লুকিয়ে আছে৷ 
তুমি হাসালে ভাই-হাসালে 
কষ্টের মাঝে আনন্দের জোয়ারে ভাসালে৷ 
আবুল-তাবুল বাজে কথা রাখ 
আমাকে একা থাকতে দাও ভিন্ন পথ দেখ৷ 
ক্লা
ন্ত,তৃষ্ণা, অনহারে 
লুটিয়ে গিয়ে পড়ি পাহাড়ে৷ 
পাহাড় বলে, এখান থেকে দূরে যাও 
আমার কাছে কি চাও? 
মানুষ পাহাড় কেটে কেটে পাহাড়ের অস্থিত্ব করছে বিলীন 
তাই মানুষ দেখরে মন-প্রাণ হয় মলিন৷ 
প্রিয়ার খুঁজে এখানে আসা 
দুঃখে-কষ্টে হারিয়ে যাচ্ছে মুখের ভাষা৷ 
হাসালে, মানুষের দুঃখ-কষ্ট কিসে 
দিন-রাত্রি কাটে আনন্দ ফুর্তিতে হেসে হেসে৷ 
যত দুঃখ-কষ্ট আমাদের 
বলির পাঠা মানুষের হাতে 
একটু সময়ই যতেষ্ঠ আমাদের অসত্মিত্ব চুর্ণবিচুর্ণ হতে৷ 
তোমার প্রিয়ার খবর কি ভাবে রাখবো বল 
বরং সামনের দিকে চল৷ 
হয়ত খুঁজে পাবে তোমার প্রিয়াকে 
ঝর্ণার জল পান করে শানত্ম করবে তোমার হিয়াকে৷ 
পাহাড়ের দেখানো পথে হাটি এক কিলোমিটারে মত 
অবশেষে ঝর্ণার দেখা জন পান করে মিঠে গেল তৃষ্ণা যত৷ 
ঝর্ণা বলে, এখন জাতি অনুমতি ছাড়া 
দুনিয়ার সব কাজ করছে তারা৷ 
মানুষ শ্রেষ্ঠ জাতি নাকি 
ধর্মে-কর্মে তারা দিচ্ছে ফাকি৷ 
আউল-বাউল পাগল পথের দিশারী কি চাও? 
আমার প্রিয়া কোথায় বলে দাও? 
অকৃতজ্ঞ মানুষ জাত 
যেদিক দিয়ে বয়ছে দৰিনা বাত 
সোজা সে দিকে চলে যাবে 
তোমার প্রিয়াকে খুঁজে পাবে৷ 
ঝর্ণার কথা বিশ্বাস করা 
আর কিছুই নয় বোকামি ছাড়া৷ 
তাই মলিন বেশে ফিরে আসি ঘরে 
সারাটা দিন খুঁজে সন্ধার পরে৷ 

Related Posts
Previous
« Prev Post
.